Home EXCLUSIVE BREAKING NEWS : ...

BREAKING NEWS : শুনবো করোনা মোকাবিলায় সফল দেশ ও শহরের গল্প !

1201
0

আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: স্পট নিউজ :: ২৪শে,মার্চ :: কলকাতা ::

সারা বিশ্বে মহামারী হিসেবে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪৮ হাজারেরও বেশি মানুষ। মৃতের সংখ্যা ১৪ হাজার ৯০০-এরও বেশি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ইতালিতে যেমন ৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, তেমনি হংকং, ম্যাকাও, ভিয়েতনাম, রাশিয়া, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো করোনা মোকাবিলায় দেখিয়েছে দারুণ সাফল্যও। আমাদের দেশবাসীর মনোবলকে চাঙ্গা করতে আজ করোনা নিয়ে কয়েকটি আসার আলাও দেখাবো একটু ধৈর্য্য ধরে পড়ুন আর মনে রাখবেন মানব জাতির স্বার্থে আমাদের এই লড়াই জিততে হবে । বিশ্বজুড়ে করোনা মোকাবিলায় সফল দেশ ও শহরের গল্প নিয়েই আমাদের এই আয়োজন ।

চিনই হয়ে উঠল করোনা নিয়ন্ত্রণের রোল মডেল

এমনকি উৎপত্তিস্থল চীনই এখন করোনা নিয়ন্ত্রণের রোল মডেল। চীনে উৎপত্তির পর ৮১ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়। মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২০০-এরও বেশি। কিন্তু সেই চীনেই এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। নতুন করে আক্রান্ত নেই বললেই চলে।

এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন অন্তত ৭ হাজার মানুষ। যার অর্ধেকই চীনের নাগরিক। এত লোক হারিয়েও চীন থমকে যায়নি। প্রায় আড়াই মাস লড়াই শেষে ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তাই বিশ্বের কাছে চীন এখন ‘করোনা মোকাবিলায় মডেল’।

করোনা মোকাবিলায় চীনকে এখন সফল বলা চলে। কিন্তু কীভাবে এই সফলতা এলো চীনের? এখন পর্যন্ত সফলভাবে করোনার কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। তবে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চীন কিউবার ওষুধ প্রযুক্তি ইন্টারফেরন আলফা টু-বি ব্যবহার করছে। ইন্টারফেরন মূলত প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন। যদি কোনো দেহকোষ ভাইরাস কর্তৃক আক্রান্ত হয়, তাহলে এটি নিঃসৃত হয়। বহিরাগত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, বিষ ও অন্য কোনো বস্তু ইত্যাদির আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য প্রতিটি দেহে একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকে, এটি দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র বা ইমিউন সিস্টেম।

ইন্টারফেরন হলো প্রোটিন জাতীয় রাসায়নিক প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র, যা দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্রের অন্তর্গত। ভাইরাস আক্রমণের পর যখন ইন্টারফেরন নিঃসৃত হয় তখন তা আক্রমণকারী ভাইরাসের প্রোটিন সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে ভাইরাসটি আর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে না। তাই সে পরবর্তী কোষগুলোকে আর আক্রমণ করতে পারে না। কাজেই সংক্রমিত কোষের চারপাশের কোষগুলো ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়। আর এরা ভাইরাস-প্রতিরোধে সক্ষম হয়ে ওঠে। কাজেই ইন্টারফেরনের কাজ হলো আক্রমণকারী ভাইরাসের সংখ্যা বৃদ্ধি বন্ধ করে দেওয়া এবং সুস্থ কোষগুলোকে ভাইরাস প্রতিরোধক্ষম করে তোলা ও ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা। এর ব্যবহারেই চীন চূড়ান্ত সাফল্য পেয়েছে বলে জানা গেছে।

মৃত্যুপুরী ইতালির ” ভো ” শহর যেন পৃথিবীর কাছে দেবদূতের প্রতিমূর্তি

ইতালি দেশটিতে দিন দিন বেড়েই চলেছে মৃত্যু মিছিল  । বাড়ছে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যাও। কিন্তু এই সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে দেশটির ছোট্ট শহর ভো তৈরি করেছে অভুত নজির। শহরটিতে এখন সংক্রমণের সংখ্যা শূন্যে নেমে এসেছে।ইতালির ভেনেতো অঞ্চলের শহর ভো। বিখ্যাত ভেনিস নগরী থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৩০০। ইতালির একেবারে মাঝখানে পড়েছে শহরটি। গত ফেব্রুয়ারিতে ইতালির অন্যান্য এলাকার মতো ভো শহরেও প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। ইতালিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা শনাক্ত করা হয় এই শহরেই, ২৩ ফেব্রুয়ারি। করোনাভাইরাসের জন্য এই শহরকেই সবচেয়ে ‘বিপজ্জনক এলাকা’ (রেড জোন) হিসেবে মনে করা হচ্ছিল।

কিন্তু ১৩ মার্চ থেকে সেখানে নতুন কোনো সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। ইতালির অন্যান্য অঞ্চলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যখন মৃত ও সংক্রমণের সংখ্যা হুঁ হুঁ করে বাড়ছে, সেখানে ভো-এর অবস্থান একেবারে ভিন্ন। কীভাবে এই বিস্ময়কর অগ্রগতি সম্ভব হলো, তার কারণ জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর শহরের সব বাসিন্দার করোনা পরীক্ষা করেন তারা। সবাইকে পরীক্ষা করা হয়। আর তাতেই মেলে সুফল।

ভেনেতোর আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও রেডক্রস কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে এই কাজটি করেন ভেনেতোর পাদুয়া শহরের ইউনিভার্সিটি অব পাদুয়ার গবেষকরা। তারা জানান, প্রথমে সবাইকে পরীক্ষা করা হয়। মোট বাসিন্দার ৩ শতাংশ (৮৯ জন) মানুষের শরীরে করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। কোনো লক্ষণ নেই, এমন মানুষের শরীরেও করোনা শনাক্ত করা হয়। এই বিষয়টি গবেষকদের জন্য ছিল খুবই উদ্বেগের।

যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের হাসপাতালে না পাঠিয়ে বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়। আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়। অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মেলামেশার বিষয়ে আরোপ করা হয় নিষেধাজ্ঞা। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে অন্য কারও শরীরে সংক্রমণ যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য তাদের হাসপাতালে পাঠানোর বিপক্ষে অবস্থান নেন গবেষকরা। দুই সপ্তাহ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনের পর ভো শহরের বাসিন্দাদের আরেক দফা গণপরীক্ষা করেন গবেষকরা। তখন দেখা যায়, সংক্রমণের সংখ্যা ৩ থেকে শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশে নেমে এসেছে।

চিকিৎসায় দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে সিঙ্গাপুর।

কোভিড-১৯ চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত এ রোগের সুনির্দিষ্ট প্রতিষেধক না থাকলেও দেশটিতে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে অর্ধেকই সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। ৪৫৫ জনের মধ্যে ১৪৪ জনই সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। মৃত্যু হয়েছে মাত্র দুজনের। আরও ৩০৯ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ ছাড়া আইসিইউতে আছেন আরও ১৪ জন। সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে দেশটিতে সন্দেহজনক প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। করোনা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা আরও প্রায় ৩ হাজার জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ পূর্ণ করেছেন অন্তত দুই হাজার মানুষ। এসব করেই সিঙ্গাপুর করোনা মোকাবিলায় সফল হয়েছে।

চাইলেই ঠেকিয়ে দেওয়া যায় দেখালো তাইওয়ান !

পুরো বিশ্ব যখন করোনাভাইরাস মহামারীতে কাঁপছে তখন এর বিরুদ্ধে দারুণ সফল তাইওয়ান। উৎপত্তিস্থল চীনের খুব কাছাকাছি হলেও সেখানে এখন পর্যন্ত মাত্র ২২১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন মাত্র দুজন। শুধু তাই নয়, সেখানে জীবনযাত্রা একেবারেই স্বাভাবিক। শুধু গণপরিবহনে চলাচলের সময় লোকজনকে মাস্ক পরতে হচ্ছে। হংকংয়ের মতো তাইওয়ানও ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসের সঙ্গে লড়াইয়ের শিক্ষা কাজে লাগিয়েছে করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে। প্রমাণ করেছে চাইলেই এমন মহামারী ঠেকিয়ে দেওয়া যায়।

২০০৩ সালে দেশটিতে সার্স ভাইরাস মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে যে ভয় ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে, তার ছিটেফোঁটাও তাইওয়ানে নেই। চীনের খুব কাছে থাকায় ২ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার দেশ তাইওয়ানকে ‘দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ অঞ্চল হিসেবে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এখানকার সাড়ে ৮ লাখ মানুষ চীনের মূল ভূখন্ডে কাজ করেন। একেবারে চীনা নববর্ষের সময় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা তাইওয়ান বড় বিপদে পড়তে যাচ্ছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

কিন্তু নানা উদ্যোগ ভাইরাস মোকাবিলায় তাদের সাফল্য এনে দেয়। প্রাথমিক স্তরের ভ্রমণের বিধিনিষেধ, আগ্রাসী পরীক্ষা, করোনাভাইরাস রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং কঠোর কোয়ারেন্টাইন বা পৃথকীকরণ বিধিমালা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, জনস্বাস্থ্যের প্রতিক্রিয়ার জন্য পরিষ্কার ব্যবস্থাপনার কাঠামো এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করতে সক্রিয় যোগাযোগও সাহায্য করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পক্ষ থেকে যদিও চীন থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তবু স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাইওয়ান মহামারী মোকাবিলায় পশ্চিমাসহ সব আক্রান্ত দেশের জন্য আরও ভালো মডেল হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here