Home Crime ভারতীয় সংস্কৃতিকে নাড়িয়ে দিয়ে ঘটে গেলো মল্লপুরমে সেই মর্মন্তুদ ঘটনা । আমরা...

ভারতীয় সংস্কৃতিকে নাড়িয়ে দিয়ে ঘটে গেলো মল্লপুরমে সেই মর্মন্তুদ ঘটনা । আমরা ওই নিহত হওয়া হাতিটির কাছে মার্জনা চেয়ে বলছি ” আমাদের ক্ষমা কোরো বন্ধু ” !

7045
0

আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: স্পট নিউজ :: ৬ই,জুন :: কোলকাতা ::

স্পট নিউজে দক্ষিণ ভারতের মল্লপুরমে ২৭শে মে খুন হয়ে যাওয়া সেই গর্ভবতী হাতিটি কে নিয়ে আমাদের আজকের প্রতিবেদন ” আমাদের ক্ষমা কোরো বন্ধু ” ।

আসলে ব্যাপারটা কি জানেন ? স্যার বার্ট্রান্ড রাসেল কিন্তু মানুষের সবথেকে সুন্দর মূল্যায়ন করেছিলেন – বলেছিলেন ম্যান ইজ এ রেশনাল এনিম্যাল । মানুষের মধ্যে যখন পশু প্রবৃত্তি গুলো প্রকট হয়ে ওঠে তখনই বীতশ্রদ্ধ মানুষ সেই মানুষের ভেকধারী জীবটিকে জানোয়ার বলে সম্বোধন করে থাকি আমরা ।

দেখাবো একপাল দ্বিপদ শাপদ দের কারবার – জার্মানির হ্যানোভার জু এর ভেতরে সবার অলক্ষ্যে চলছে ছোট ছোট শিশু হাতি গুলির ওপর চরম অত্যাচার । এই ছবির সবটিই গোপন ক্যামেরায় তোলা কারণ চিড়িয়াখানার ওই কমপ্লেক্সের ভেতর কিন্তু বাইরের কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হয়না ।
জানি আপনারাও আমার মতোই ব্যথিত হয়েছেন আর জানি এই পশু ক্লেশ নিবারণের জন্য আপনারাও বিদ্রোহী হয়ে উঠছেন এই প্রথার ওপর ।

দক্ষিণ ভারতের মল্লপুরম একটি জনপদ ঠিকই কিন্তু প্রাপ্ত তথ্য বলছে এলাকার মানুষদের কিন্তু সুনাম তো নেইই উপরন্তু এলাকার বেশিরভাগ মানুষেরই কিন্তু দুষ্কৃতী মনস্ক বলে অপবাদ রয়েছে । এমন অপবাদ কিন্তু আমি বা আমরা দিচ্ছিনা – একথা বলছেন স্বয়ং পশুপ্রেমী মানেকা গান্ধীই । কি হয়েছিল সেদিন সেই ২৫ শে মে ?

হাতিটি খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে এসেছিল। স্থানীয় ব্যক্তিরা বন্য শূকর ঠেকাতে সাধারণত আনারসের ভেতরে পটকাবাজি ভরে ফাঁদ বানিয়ে রাখে। ধারণা করা হচ্ছে, এমনই একটি আনারস খেয়ে ফেলেছিল হাতিটি। পরে তা হাতিটির মুখেই বিস্ফোরিত হয়। এতে হাতিটি মারাত্মকভাবে আহত হয়। পরবর্তী সময়ে পাশের এক নদীতে দাঁড়ানো অবস্থায় তিলে তিলে মৃত্যু হয় হাতিটির।

‘হাতিটি মানুষকে বিশ্বাস করেছিল। যখন তার মুখের ভেতর আনারসটি বিস্ফোরিত হয়েছিল, তখন সেই নিশ্চয়ই যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গিয়েছিল। কিন্তু নিজের চেয়ে হয়তো অনাগত সন্তানের কথাই সে বেশি ভেবেছিল। আগামী ১৮ থেকে ২০ মাসের মধ্যে হাতিটির সন্তান হওয়ার কথা ছিল।’

হাতিটির মুখের ভেতরে পটকা বা বাজিগুলো বিস্ফোরিত হওয়ায় প্রাণিটির জিভ ও মুখের ভেতরের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে আহত হাতিটি কিছু খেতেও পারছিল না। মুখের ক্ষতের যন্ত্রণা ও খিদের জ্বালায় অস্থির হয়ে হাতিটি পার্শ্ববর্তী গ্রামের চারপাশে অনেক ঘুরেছিল। কিন্তু একটিবারের জন্যও মানেুষের ওপর হামলা চালায়নি।

‘হাতিটি যন্ত্রণায় গ্রামের রাস্তায় দৌড়েছে কয়েক দফা। কিন্তু কোনো মানুষের ওপর আক্রমণ চালায়নি। একটা বাড়িও আছড়ে ফেলেনি।’

পরে একসময় হাতিটি পার্শ্ববর্তী ভেলিয়া নদীতে আশ্রয় নেয়। দেখুন সেই ভিডিও যাতে বন্দি রয়েছে হাতিটির মৃত্যুর দৃশ্য যেখানে দাঁড়িয়ে সে প্রতীক্ষায় ছিল মৃত্যুর আর আমরা কিসের প্রতীক্ষায় ছিলাম ? ওই হাতিটির মৃত দেহের অংশ গুলি বিক্রি করে বড়োলোক হবার প্রতীক্ষায় ।স্থানীয় সূত্রের মতে বিগত দশ দিনে এভাবেই নাকি মরেছে ৬./ ৭ টি হাতি যার সত্যতা পাওয়া যাবে মানেকা গান্ধীর বয়ানে ।

বন্ধুরা আজ খুব ভারাক্রান্ত মনেই আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি শুধু বলে যাই কোথাও নিরীহ প্রাণীর ওপর আক্রমণ হলে রুখে দাঁড়ান মনে থাকে যেন আমরা বলেছি ওই মল্লপুরমের হাতিটিকে – ” আমাদের ক্ষমা কোরো বন্ধু “|সঙ্গের ভিডিওটি অবশ্যই দেখুন এবং শেয়ার করুন প্লিজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here