Home EXCLUSIVE দেশজুড়েই সোমবার থেকেই লকডাউন কিছুটা শিথিল হচ্ছে – ৩রা মে...

দেশজুড়েই সোমবার থেকেই লকডাউন কিছুটা শিথিল হচ্ছে – ৩রা মে থেকে শুরু হতে পারে সীমিত দূরপাল্লার রেল পরিষেবাও !

2558
0

BREAKING NEWS

আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: স্পট নিউজ :: ১৯শে,এপ্রিল :: নয়াদিল্লি ::

পাক্কা ২৭ দিনের মাথায় কাল সোমবার থেকে ভারত জুড়েই লকডাউনের মেয়াদ কিছুটা শিথিল হচ্ছে। অবরুদ্ধ দেশে প্রধানত গ্রামীণ অর্থনীতিতে কিছুটা প্রাণ ফেরাতে অনেক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হচ্ছে। শুরু হতে চলেছে ১০০ দিনের কাজ, ফসল কেটে বাজারজাত করা, রাস্তা, সেতু, সেচ ও গৃহনির্মাণ প্রকল্প, গ্রামীণ শিল্প ও ই-কমার্স। তবে যেসব পণ্য অত্যাবশ্যক নয়, সেগুলো ই-কমার্স সংস্থা বিলি করতে পারবে না।

অবশ্য দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের যেসব জেলায় করোনার প্রকোপ এখনো অব্যাহত, সেখানে এই শিথিলতা প্রযোজ্য হবে না। যেমন দিল্লি। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল আজ রোববার জানিয়েছেন, রাজধানী-রাজ্যের মোট ১১ জেলাই ‘হট স্পট’। সব জেলা মিলিয়ে রেড জোনের সংখ্যা ৭৭টি। কদিন ধরে সংক্রমণ বাড়ছে। কাজেই এখনই দিল্লির কোনো এলাকায় নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এক সপ্তাহ পর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা।

দিল্লিতে করোনা-আতঙ্ক বেশ আশঙ্কাজনক। সংক্রমণের সংখ্যা ২ হাজার ছুঁতে চলেছে। মারা গেছে ৪২ জন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংক্রমণ না কমলে হাসপাতালে বিছানা পাওয়া যাবে না। অভাব দেখা দেবে ভেন্টিলেটরের। কাজেই তিনি কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নন।

কাল সোমবার থেকে শিথিল হওয়া জেলাগুলোয় কৃষি ও শিল্পশ্রমিকেরা এক অঞ্চল থেকে অন্যত্র যাতায়াত করতে পারবেন। সে জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিবহনের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু কোনোভাবেই পরিযায়ী শ্রমিকেরা নিজেদের ঘরে ফিরতে পারবেন না।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার সব রাজ্য সরকারকে এই নির্দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়ে বলেছে, পরিযায়ী শ্রমিকেরা যে যেখানে শিবিরে রয়েছেন, তাঁদের সেখানেই রাখা হবে। কাউকে নিজ নিজ রাজ্যে ফেরত পাঠানো যাবে না। এ কথাও বলা হয়েছে, পরিযায়ী শ্রমিকেরা যে যে কাজে পারদর্শী, সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে তা জানাতে হবে। সেই কুশলতা নথিভুক্ত করা হবে যাতে লকডাউন পর্ব শেষে হলে তাঁদের কাজে লাগানো যায়।

তবে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রাজ্যের মধ্যে শ্রমিকেরা নিজেদের বাড়ি বা এলাকায় ফিরতে চাইলে অনুমতি দেওয়া হবে। তবে তার আগে প্রত্যেকের করোনা পরীক্ষা করা হবে। যাঁদের সংক্রমণ নেই, একমাত্র তাঁদেরই সেই অনুমতি দেওয়া হবে।

পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে ভারতের রাজনীতি এই মুহূর্তে যথেষ্ট সরগরম। বিভিন্ন রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকেরা ঘরে ফিরতে চাইলেও পারছেন না। বাস-ট্রেন না চলায় অনেকে হেঁটে কয়েক শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিচ্ছেন। কোনো কোনো রাজ্য সীমানায় অনেককে আটকেও দেওয়া হয়েছে। অনেকে পথশ্রম ও ক্লান্তিতে প্রাণ হারিয়েছেন। দরিদ্র শ্রমিকের ক্ষেত্রে এত কড়াকড়ি করা হলেও রাজস্থানের কোটা শহরে বিভিন্ন ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে আটকে পড়া মধ্যবিত্ত পরিবারের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীকে ফেরাতে উত্তর প্রদেশের বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ কয়েক শ বাসের বন্দোবস্ত করেন। এই বৈষম্যকে কেন্দ্র শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

এই বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, ৩ মের পর রেল শুধু পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কিছু কিছু দূরপাল্লার গাড়ি চালাতে পারে। করোনার সংক্রমণ না কমলে ট্রেন ও বিমান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। সরকারি সূত্রের খবর, শনিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং যে বৈঠক করেন সেখানেই ঠিক হয়, গণপরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার আগে করোনা পরিস্থিতি যাচাই করা হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here