Home EXCLUSIVE টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া দেহের মাংসপিন্ডগুলি পরম যত্নে কুড়িয়ে নেওয়া ...

টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া দেহের মাংসপিন্ডগুলি পরম যত্নে কুড়িয়ে নেওয়া হলো । তোলা হলো ফেলে যাওয়া, না খাওয়া রুটি গুলো তারপর কি হলো ??

9356
0

BREAKING NEWS

আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: স্পট নিউজ :: ১১ই,মে :: কোলকাতা ::

একটা খুব প্রাসঙ্গিক কবিতার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে – বিখ্যাত হিন্দি কবি সুদামা পান্ডে ধূমল লিখেছিলেন ” কোই রোটি বেলতা হ্যায় – কোই রোটি খাতা হ্যায় বিচ মে এক আদমি আওর হ্যায় জো রোটি সে খেলতা হ্যায় – এই তৃতীয় ব্যক্তিটি কে ?

তৃতীয় জন আর কেউ নয় আমাদের দেশের সিস্টেম । এই সিস্টেমের ব্যর্থতার জন্যেই মধ্যপ্রদেশের শাহডোল থেকে ৫৩৫ কিলোমিটার দূরে মহারাষ্ট্রের জালনায় কেবল মাত্র রুটির সন্ধানে গিয়েছিলেন একদল বেকার যুবক । ৪২ দিন লকডাউনে যখন এদের আর্থিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিলো তখন কিন্তু এদের ঘরে পৌঁছোবার জন্য কোনো ট্রেন মেলেনি ।

কিন্তু দেখুন অদৃষ্টের পরিহাস ওরা ট্রেন পায়নি কিন্তু ট্রেন ওদের কাছে এসেছিলো যখন ক্লান্ত অবসন্ন ওই পরিযায়ী শ্রমিকের দল ট্রেন লাইনের ওপর অবসন্ন হয়ে একটু ঘুমিয়ে পড়েছিলেন ঠিক তখন । আর তাদের ওপর দিয়ে ওদের সুখের নিদ্রাকে চির নিদ্রার গভীরে ডুবিয়ে দিয়ে চলে গেলো ।

এখন কিন্তু সেই সিস্টেমের জেরেই এম্বুলেন্স এলো আহতদের নিয়ে যাবার জন্য, সেখানে রীতিমত চিকিৎসা চলবে আর চলবে নেতাদের বয়ান বাজি । যেখানে আমাদের ওই ছেলেরা ঘুমিয়ে ছিল আর চিরনিদ্রায় চলে গিয়েছিলো ঠিক সেখানেই দুই কামরার একটি বিশেষ ট্রেন পৌঁছে গেলো কারণ ওদের সেই টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া দেহের মাংসপিন্ড গুলি পরম যত্নে কুড়িয়ে নেওয়া হবে । তোলা হবে তাদের ফেলে যাওয়া না খাওয়া রুটি গুলো যা দেখলে আপনার চোখে জল আসতে বাধ্য ।

শুধু তাই নয় টুকরো টুকরো দেহাংশগুলি নিয়ে একটি বিশেষ ট্রেন যাচ্ছে মধ্যপ্রদেশ – এই ঘটনার পরম্পরাকে আমরা মানসিক বিড়ম্বনা ছাড়া আর কিই বা বলতে পারি ? মজদুরদের রুটি নিয়ে যে খেলেছে সে আর কেউই নয় আমাদের সিস্টেম ।

মধ্যপ্রদেশ সরকার বলছেন মৃত শ্রমিকদের পরিবার পাবে ৫ লক্ষ টাকা আর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর নাকি মনে বড় আঘাত লেগেছে এই ঘটনায় তিনি বলেছেন আমরা ওদের সাথে আছি ।

দিনটা ছিল পূর্ণিমার দিন । যখন ফেসবুকে পূর্ণিমার চাঁদ নিয়ে কাব্য করছেন অনেকেই ঠিক তখনই রেল লাইনের ওপর শুয়ে ওই হতদরিদ্র শ্রমিকেরা হয়তো আগামী দিনের সুখস্বপ্নে মগ্ন ছিল । তখনই ওদের স্বপ্নের চাঁদ যেন হয়ে গেলো আধপোড়া ঝলসানো রুটি ।

যখন অনেকেই আমরা চাঁদ নিয়ে বিছানায় সুখনিদ্রায় মগ্ন ঠিক তখন ওই পরিযায়ীরা সেই চাঁদের আলো সম্বল করেই রেল লাইন ধরে এগোচ্ছিলেন ভুসয়ালের দিকে যেখানে গেলে হয়তো মিলতে পারে বাড়ি য়াবার ট্রেন কিন্তু …….

তারা হাঁটছিলো চাঁদ আর রুটিকে সঙ্গে নিয়েই কিন্তু আমরা শুনবে সঙ্গী পরিযায়ী শ্রমিকদের কথা যারা সেদিন ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরেছে । তাদের মুখেই শুনলাম কেমন করে এরাই একটু আগে একটি করে রুটি খেয়ে বাকিটা রেখেছিলো আগামী পথটুকুর জন্য কিন্তু সেই রুটি আর খাওয়া হলোনা। ……

আমি জানি এই সব দৃশ্য দেখে আমার মতোই আপনারাও মনবেদনায় ভুগছেন কিন্তু ওই তৃতীয় জন যে আসল অপরাধী – অর্থাৎ সিস্টেম তার কি হবে । দেশের কর্নধার যাঁরা সিস্টেম তৈরী করেন যাঁরা তার অনুমোদন দেন তাঁরা কিন্তু কেউই ভবিষ্যতের কথা ভাবেন না । আমরা বলতে চাই এই সিস্টেম বানানোর সিস্টেম এ বদল হোক যেন ভারত আর তার শাসনকর্তার আরও একটু মানবিক হন ।

এর পরও কি বলতে হবে ” যেদিন সুনীল জলধি হইতে – উঠিলে জননী ভারতবর্ষ,
গাইলো সকলে জয়মা জননী জগৎ জননী ভারতবর্ষ ”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here