Home EXCLUSIVE চীনা করোনা ভাইরাসের আক্রমণ ভারতীয় সেনাবাহিনীকে – লেহ-তে মোতায়েন এক সেনার শরীরে...

চীনা করোনা ভাইরাসের আক্রমণ ভারতীয় সেনাবাহিনীকে – লেহ-তে মোতায়েন এক সেনার শরীরে কোভিড-১৯ ভাইরাস ধরা পড়েছে।

168
0

আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: স্পট নিউজ :: ১৮ই,মার্চ :: নয়াদিল্লি ::

ভারতীয় সেনাবাহিনীতেও ছড়িয়ে পড়ল করোনাভাইরাস। লাদাখের রাজধানী লেহ-তে মোতায়েন এক সেনার শরীরে কোভিড-১৯ ভাইরাস ধরা পড়েছে। ৩৪ বছর বয়সী ওই জওয়ানের বাবা সম্প্রতি ইরান থেকে বাড়ি ফেরেন। তাঁর শরীরেও করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। সেখান থেকেই সংক্রমিত হয়েছে ওই জওয়ান।

ওই জওয়ান লাদাখ স্কাউট পদাতিক বাহিনী ‘স্নো ওয়ারিয়ার্স’-এর সদস্য। তিনি, তাঁর বাবা ও পরিবারের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জওয়ানের রেজিমেন্টের সবাইকে পর্যবেক্ষণের জন্য ছাউনি ছেড়ে বাইরে যেতে বারণ করা হয়েছে।

করোনা সন্দেহে মহারাষ্ট্রের পুনে সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরের এক সেনাকর্তাকেও কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। বুধবার ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৭। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ জন।

আজ বুধবার লোকসভায় সরকার জানায়, বিদেশে বসবাসরত ২৭৬ জন ভারতীয় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৫৫ জন রয়েছেন ইরানে। অন্যদের মধ্যে ১২ জন আমিরাত এবং ৫ জন ইতালিতে। হংকং, কুয়েত, রুয়ান্ডা ও শ্রীলঙ্কায় ১ জন করে আক্রান্ত হয়েছেন।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক থেকে আজ বুধবার এক সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, আগামী তিন সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে সার্থকভাবে মোকাবিলা করা না গেলে করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

মোকাবিলার দরুন সব ধরনের ভিড় কমানোর কথা বলা হয়েছে। তাজমহল, লালকেল্লার মতো যেসব স্থাপত্যে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় করেন, গতকাল মঙ্গলবার থেকে সেগুলো বন্ধ। আজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জম্মু শহরের অদূরে পাহাড়ের ওপর বৈষ্ণদেবীর মন্দির। মুম্বাইয়ের অন্যতম ল্যান্ডমার্ক সিদ্ধি বিনায়ক মন্দিরও ভক্তদের কাছে বন্ধ হয়ে গেছে। ক্রমেই লোক কমছে দেশের বড় বড় শহরের রাস্তায়।

দিল্লির কনট প্লেসের অধিকাংশ রেস্তোরাঁ এই মাসের বাকি কটা দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ দেশের সব সিমেনা হল, মল। বন্ধ রাখা হয়েছে মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাইয়ের সিনেমা-টিভি ধারাবাহিকের শুটিং। ক্রমেই গৃহবন্দী হয়ে পড়ছে গোটা দেশ।

এ অবস্থায় আধা সামরিক বাহিনীগুলোয় একান্ত প্রয়োজন ছাড়া সব ছুটি বাতিল করে দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। বাহিনীকে যুদ্ধকালীন মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

করোনায় আতঙ্কের দরুন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য অল্পবিস্তর মজুত করার প্রবণতা বিভিন্ন শহরে দেখা যাচ্ছে। তা না করার জন্য সরকারের পক্ষে প্রচার চালানো হচ্ছে। সরকারের পক্ষে বারবার বলা হচ্ছে, সবাইকে সাবধান অবশ্যই থাকতে হবে, তবে অযথা আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কারণ নেই।

দিল্লি সরকার ৫০ জনের বেশি লোকের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে। সিএএ-এনআরসির প্রতিবাদে শাহিনবাগের আন্দোলনকারীরা ওই নির্দেশ অগ্রাহ্য করেছেন। তবে ধরনাস্থলে তাঁরা কখনো ৫০ জনের বেশি থাকছেন না। এ অবস্থায় সংসদের অধিবেশন বন্ধ করে দেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্ন ওঠে। বুধবার সংসদের রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডু বলেন, সবার সঙ্গে কথা বলে সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। যদিও গত মঙ্গলবারই দলীয় সাংসদদের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, তিনি এই সংকটে সংসদ খোলা রাখার পক্ষে।

রাজ্যসভার অধিবেশনে বুধবার কয়েকজন সদস্য মুখোশ পরে যোগ দেন। ভেঙ্কাইয়া তাঁদের মুখোশ খুলে সভায় থাকার নির্দেশ দেন। কংগ্রেস সদস্য প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম তাঁকে নির্দেশ বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, বিষয়টি সদস্যদের ওপরেই ছেড়ে দেওয়া উচিত। কেউ যদি মনে করেন, মুখোশ তাঁকে সুস্থ রাখবে তা হলে সেই অধিকার থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা ঠিক হবে না। চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডু ওই যুক্তি মেনে নেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here