Home EXCLUSIVE ঘড়ির কাঁটায় পাঁচটা – জরুরি কাজে যুক্তদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন দেশবাসীর |

ঘড়ির কাঁটায় পাঁচটা – জরুরি কাজে যুক্তদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন দেশবাসীর |

153
0

আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: স্পট নিউজ :: ২০শে মার্চ :: কলকাতা ::

ঘড়ির কাঁটায় বিকেল ঠিক পাঁচটা। গোটা দেশ সারাদিনের ঘরবন্দি অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসল। কারোর হাতে কাঁসর, কারোর হাতে আবার ঘন্টা। কেউ বাজালেন শাখ। আর এভাবেই দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যে সমস্ত মানুষ দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানালেন দেশের মানুষ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আর কোনো আহ্বানে দলমত-নির্বিশেষে দেশের সবাই এভাবে সাড়া আগে কখনো দেয়নি। সেই নিরিখে রোববার, ২২ মার্চের ‘জনতা কারফিউ’ আঠারো আনা সফল। এই সাফল্যের ওপর ভর করেই ভারতে করোনা-মোকাবিলার পরবর্তী ব্যবস্থাগুলো ঘোষিত হতে চলেছে।

শুধু দিল্লি নয়, বিভিন্ন রাজ্যে ‘লক ডাউনের’ এমন ভাবনা উঁকি মারতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও ছোট আকারে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরুও হয়েছে। যেমন মহারাষ্ট্র ও পাঞ্জাব। এই দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা খুব বেশি জোর দিয়েছেন লোক চলাচল যথাসম্ভব কম করার দিকে। সে জন্য দুই রাজ্যই সরকারি যান, রাজ্যের ভেতর ও বাইরে চলা ট্রেন এবং আন্তঃরাজ্য বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দিয়েছে। পাঞ্জাবের কেউ যাতে রাজ্য থেকে বেরোতে বা ঢুকতে না পারে সে জন্য সব ধরনের আন্তঃরাজ্য পরিবহন সেবা চলতি মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রাজস্থান এমনই এক রাজ্য যেখানে দিল্লির পরেই সবচেয়ে বেশি বিদেশি পর্যটক ভিড় করেন। ওই রাজ্যে আচমকাই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী ভেবেছেন, দিন কয়েকের জন্য গোটা রাজ্যের জনজীবন স্তব্ধ করে দেবেন। টোটাল লকডাউন। ভারতে করোনাতঙ্কের তৃতীয় সপ্তাহে এটা অন্তত স্পষ্ট, বিশ্বজোড়া এই মারণ রোগ প্রায় সবাইকে ভয় পাইয়ে দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা পালনে আইন ও ভক্তির চেয়ে ভয় যে অনেক বেশি কার্যকর, নতুন করে তা আবার প্রমাণিত। শেষ পর্যন্ত এই ভয়ই করোনা প্রতিরোধে ভারতকে সাফল্যের মুখ দেখাতে পারে।

কিন্তু পাশাপাশি এ কথাও বলতে হবে, চীনের হাহাকার দেখার পরেও বেশ কিছুটা সময় ভারত হেলায় কাটিয়ে দিয়েছে। আগেভাগে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়নি। এর একটা কারণ সম্ভবত, দেশ-বিদেশের সীমানা পেরিয়ে করোনা যে এমন ভয়াবহ চেহারা নিতে পারে, সেই ধারণা না থাকা। শুধু ভারতই বা বলি কেন, পশ্চিমা কোনো দেশের ভাবনাতেও তা আশ্রয় পায়নি। এই ধারণা না থাকার একটা সম্ভাব্য কারণ আফ্রিকার চার-পাঁচটা দেশের বাইরে ‘ইবোলা’ ভাইরাসের ছড়িয়ে না পড়া।

বছর পাঁচেক আগের ওই মহামারি আফ্রিকায় ১২ হাজারের মতো মানুষের প্রাণ নিয়েছিল। করোনা যে এমন সর্বব্যাপী হতে পারে তা না বুঝতে পারা অবশ্যই এক সার্বিক ব্যর্থতা। কিন্তু পাশাপাশি এটাও স্বীকার করতে হবে, ভারতের মতো দেশে স্বাস্থ্য খাতে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ হওয়া উচিত, বহু বছর ধরেই তা অবহেলিত।

এই অবহেলার জন্যই রাজ্যে রাজ্যে চটজলদি যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তাতে অব্যবস্থার পাশাপাশি থেকে যাচ্ছে ব্যাপক সব ফাঁকফোকর। যেমন কোয়ারান্টিন শিবির। দিল্লিতে এমন শিবিরের বেশ কিছু ছবি মিডিয়ায় ছাপা হয়েছে যেখানে টানা পনেরো দিন তো দূরের কথা, একটা দিনও কাটানো যায় না! এমনই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ! দুর্গন্ধে শ্বাস নেওয়া কঠিন। বিদেশ থেকে ফেরা কোনো মানুষকে এমন পরিবেশে থাকতে বাধ্য করলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। বেশ কিছু মানুষ চোখে ধুলো দিয়ে কেটে পড়েছে।

এইভাবে চলে যাওয়া, অথবা পরিস্থিতিকে গুরুত্ব না দেওয়া অন্য বিপদের দরজা জানলা যে হুট করে খুলে দিচ্ছে, সেই বোধটুকু অনেকের মধ্যে নেই। অজ্ঞতা এক জিনিস। কিন্তু উপেক্ষা ও অগ্রাহ্য অন্য বিপদের জন্ম দেয়। ভারতের মতো জনবহুল দেশে তা মারাত্মক আকার নিতে পারে। সৌভাগ্য, এখনো পর্যন্ত তা হয়নি। কিন্তু হতে কতক্ষণ?

বিকাল ঠিক পাঁচটা বাজতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ দলমত নির্বিশেষে করোনা উদ্ভুত জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় নিয়োজিত কর্মীদের ধন্যবাদ এবং উৎসাহ দিতে বেরিয়ে আসেন ঘরের বাইরে । দূর থেকে ভেসে আসতে থাকে শঙ্খধ্বনি,হাততালি ও কাঁসর ঘন্টার শব্দ ।

মানুষ যে প্রধানমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়েছেন এবং দেশের সংকট মুহূর্তে দলমত নির্বিশেষে দেশবাসী যে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে সে জন্য তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছে সকলকে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here