Home EXCLUSIVE কেন্দ্রীয় সরকার করোনাকে ‘বিপর্যয়’ বলে ঘোষণা করল।

কেন্দ্রীয় সরকার করোনাকে ‘বিপর্যয়’ বলে ঘোষণা করল।

143
0

আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: স্পট নিউজ :: ১৬ই,মার্চ :: নয়াদিল্লি ::

কেন্দ্রীয় সরকার অবশেষে করোনাকে ‘বিপর্যয়’ বলে ঘোষণা করল। শনিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে সরকারিভাবে এই ঘোষণা করা হয়। এর ফলে রাজ্যগুলো পরিস্থিতির মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সহায়তায় গড়া রাজ্য বিপর্যয় তহবিল থেকে অর্থ খরচ করতে পারবে।

এই ঘোষণার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনগণের আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকারি পদস্থ আধিকারিকেরা জানান, করোনাভাইরাসের এই প্রকোপকে কোনোভাবেই স্বাস্থ্য–সম্পর্কিত জরুরি অবস্থা বলা যাবে না।

আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে দুজনের। একজন ৬৮ বছরের মহিলা। তিনি দিল্লিতে মারা গেছেন। অন্যজন ৭৬ বছর বয়সী। তিনি মারা গেছেন দক্ষিণি রাজ্য কর্ণাটকে। করোনার মোকাবিলায় গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সার্ক সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে জোটবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই করোনাকে ‘বিপর্যয়’ বলে মেনে নেওয়া হলো।

তবে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে প্রথমে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল, কিছুক্ষণের মধ্যেই তা পরিমার্জন করে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, করোনায় মৃতদের পরিবারপিছু চার লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। তা ছাড়া আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার খরচও দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরে সেই বিজ্ঞপ্তি পরিবর্তন করে ওই দুই বিষয় বাদ দেওয়া হয়। পরিবর্তিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আক্রান্তদের অস্থায়ী বাসস্থান, চিকিৎসার খরচ এবং একঘরে করে রাখার (কোয়ারেন্টিন) দরুন যা খরচ, তা রাজ্য সরকার করতে পারবে।

ডাক্তারি পরীক্ষার দরুন নমুনা জোগাড় করার খরচসহ যা কিছু প্রয়োজন, বিপর্যয় তহবিল থেকে তা নেওয়া যাবে। এ ছাড়া রাজ্যজুড়ে অতিরিক্ত পরীক্ষাগার তৈরি, প্রয়োজনীয় পোশাক ও যন্ত্রপাতি, থার্মাল স্ক্যানার, ভেন্টিলেটর, বাতাস শুদ্ধ করার যন্ত্রাদির খরচও রাজ্যগুলো ওই তহবিল থেকে নিতে পারবে। তবে ওই খরচ তহবিলের বার্ষিক অনুমোদনের ১০ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। পরিবর্তিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দিষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, বাড়তি খরচ হলে তা রাজ্যকে দিতে হবে। রাজ্য বিপর্যয় তহবিল থেকে নেওয়া যাবে না।

বিপর্যয়ের মোকাবিলায় ভারত ইতিমধ্যেই একগুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছে। দেশে ৩৭টি সীমান্ত চেকপোস্টের মধ্যে ১৯টি খুলে রাখা হয়েছে। কূটনীতিক, সরকারি কর্তা, জাতিসংঘ ও চাকরি ছাড়া পুরোনো সব ভিসা ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে।

ADVERTISEMENT

বিভিন্ন রাজ্যে সিনেমা হল, মল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুল–কলেজ গোটা দেশেই বন্ধ। আগামী সপ্তাহে ভারতীয় সংসদের অধিবেশনের মেয়াদও শেষ করে দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। স্থগিত রাখা হয়েছে আইপিএল টুর্নামেন্ট। অন্যান্য খেলা করা হচ্ছে দর্শকহীন ফাঁকা মাঠে। বেঙ্গালুরুর ইনফোসিস অফিস সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে একজন কর্মী আক্রান্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here