Home EXCLUSIVE কলকাতার কালিকাপুরে ঢুকে পড়লো মরু পঙ্গপালের দল – ঘুম উড়েছে...

কলকাতার কালিকাপুরে ঢুকে পড়লো মরু পঙ্গপালের দল – ঘুম উড়েছে চাষিদের !

2433
0

BREAKING NEWS

আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: স্পট নিউজ :: ২৬শে মে :: কোলকাতা ::

আমরা কয়েকদিন আগেই স্পট নিউজে খবর করেছিলাম যে পঙ্গপালের দল হানা দিয়েছে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে । এবং তারা সম্ভবত ঝাড়খন্ড দিয়ে এই রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে । আমাদের আশংকায় সত্যি হলো । আজকেই কলকাতার শহরতলি কালিকাপুরের আকাশে দেখা গেছে পঙ্গপালের দলকে ।

ছোট্ট পাখায় ভর করেই দল বেঁধে কয়েক হাজার মাইল পথ পাড়িদিয়ে সুদূর আফ্রিকা থেকে তারা পাকিস্তান হয়ে উত্তর ভারতে প্রবেশ করে । রাজস্থান এবং মধ্য প্রদেশে আনুমানিক ৮ হাজার কোটি টাকার মুগডাল নষ্ট করেছে বলে আশংকা করা হচ্ছে । ভয়ংকর হয়ে ওঠা পঙ্গপালের দল জয়পুরে তাণ্ডব চালিয়ে ঢুকে পড়েছে মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশেও। হোয়াট নেক্সট? গো বলয়ের পর পঙ্গপাল বাহিনী নাকি বাতাসের গতিপথ বেয়ে পূর্ব দিকে সরতে শুরু করেছে। ঝড়খণ্ড পর্যন্ত নাকি চলেও এসেছে! তবে, কি পঙ্গপালদের পরবর্তী গন্তব্য গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ?

চিন্তায় আকুল বাংলার পতঙ্গবিদরা। কারণ, এই অ‌্যাক্রিডিডেই প্রজাতির এই পঙ্গপালের প্রজননের জন্য যে অনুকূল পরিবেশ দরকার, তা এখন আমফানের সৌজন্যে পশ্চিমবঙ্গে মজুত।

সুতরাং বাংলার ভিজে মাটি, গঙ্গাপাড়ের হাওয়া, মাঠভরতি ফসল, সব মিলিয়ে সুজলা-সুফলা বাংলা ‘অটোমেটিক চয়েস’ হতেই পারে। এমনটাই মনে করছেন বিশিষ্ট পতঙ্গবিদরা। তাঁদের মত, এই পরিযায়ী পতঙ্গ বাহিনী যে গতিতে উড়ছে তাতে বাংলা কেন, ভারতের যে কোনও রাজ্যে এরা পৌঁছে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে। সুতরাং সাবধান হতেই হবে ।

প্রশাসনও বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে। রাজ্যের পতঙ্গবিদরা পঙ্গপালের গতিবিধির উপর নজর রাখছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, ’৬১ সালে কলকাতায় একবার পঙ্গপাল হানা দিয়েছিল। ঝাঁকে ঝাঁকে পতঙ্গের দল মেঘের মতো কালো হয়ে প্লেনের মতো ভোঁ ভোঁ শব্দ করতে করতে মহানগরে ঢুকেছিল। আর তেমন কোনও তথ্য নেই। তাই, এদের সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত হোমওয়ার্ক চাই। যা করোনা ও আমফান বিধ্বস্ত বাংলার প্রশাসনের পক্ষে বেশ মুশকিল।

তাই, দুশ্চিন্তায় রাতের ঘুম উড়েছে বাংলার কৃষকদের। রাজস্থানের জয়পুরের মতো এখানেও যদি হানা দেয় পঙ্গপাল! নষ্ট করে ফেলে ফসল! সিঁদুরে মেঘ দেখছে জঙ্গলমহল। কারণ, ঝাড়খণ্ড থেকে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর হয়েই ঢোকার কথা এই পরিয়াযীদের। সেক্ষেত্রে বিঘের পর বিঘে ছিবড়ে করে ফেলবে।

আফ্রিকা থেকে যখন যাত্রা শুরু করেছিল পঙ্গপালের দলটি, তখন কিন্তু সংখ্যায় এত বড় ছিল না। আস্তে আস্তে বেড়েছে। এরা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বংশবিস্তার করতে পারে। এক একটি পঙ্গপাল একশোটি পঙ্গপালের জন্ম দিতে পারে। সুতরাং হাজার থেকে লাখে পৌঁছতে মাত্র কয়েকদিন সময় লাগে।

এরা মূলত তুলো ও সবজিখেতে হামলা চালায়। একসঙ্গে কয়েক লক্ষ থাকে। এদের সামলানো সত্যিই মুশকিল। ভ্যাকুম ক্লিনারের মতো ‘অ্যাসপিরেটর’ ব্যবহার করে এদের বন্দি করা যেতে পারে। অনেক দেশ ‘নালিজ ট্র্যাপ’ ব্যবহার করে। তবে, প্রথমে কীটাণুনাশক ব্যবহার না করাই ভাল। ‘মেকানিক্যাল পদ্ধতি’ ব্যবহার করে বরং এই পরিযায়ীদের ‘কোয়ারান্টাইন’ করা অনেক বুদ্ধিমানের কাজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here